যুক্তরাজ্যের দুর্নীতি দমন মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক সম্প্রতি বাংলাদেশে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির তদন্তে তার নাম আসার পর পদত্যাগ করেছেন। তার পদত্যাগের ঘটনা বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্য উভয় দেশের রাজনীতিতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের খালা, বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের আগস্টে, যখন ব্যাপক বিক্ষোভ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান।
শেখ হাসিনার সরকারকে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, এবং আর্থিক দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়তে হয়। তার সরকারের পতনের সময় ঘটে যাওয়া সহিংস সংঘর্ষে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ নিহত এবং হাজার হাজার আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের নবগঠিত অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে তার আমলে সংঘটিত অপরাধের তদন্ত শুরু করেছে। শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
টিউলিপ সিদ্দিকের নাম দুটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্নীতি তদন্তে উঠে এসেছে, যার মধ্যে একটি রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তাকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ঢাকায় শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবনে টিউলিপ সিদ্দিকের প্রচারণা সামগ্রী এবং বিলাসবহুল পণ্যের সন্ধান পাওয়া গেছে। এসব পণ্যের মধ্যে ছিল গহনা, সোনার প্রলেপযুক্ত কলম, দামি পোশাক এবং অন্যান্য উপহার।
নিউইয়র্কভিত্তিক হিউম্যান রাইটস ওয়াচ হাসিনার শাসনামলে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। তবে শেখ হাসিনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
টিউলিপ সিদ্দিক তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বারবার অস্বীকার করেছেন। তিনি স্যার লরি ম্যাগনাসকে লেখা চিঠিতে বলেছেন, “আমি কোনো ভুল করিনি। তবে সন্দেহ এড়ানোর জন্য আমি চাই আপনি স্বাধীনভাবে সব সত্য উদঘাটন করুন।”
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের আর্থিক অব্যবস্থাপনা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই জবাবদিহি প্রক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: এশিয়া টাইমস
0 মন্তব্যসমূহ